লোককাহিনী এবং আখ্যান রূপান্তর
সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার থেকে আধুনিক রূপান্তর
Abstract
লোককাহিনী ও আখ্যান রূপান্তর বাংলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই গবেষণা পত্রে আখ্যান রূপান্তরের ধারণা, এর সামাজিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব, এবং আধুনিক সাহিত্যে, নাটক, চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উনিশ শতকে বাংলার পণ্ডিতগণ যেমন দীনেশচন্দ্র সেন লোককাহিনী সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। গ্রিম ভাইদের কাজ পশ্চিমা প্রেক্ষাপটে লোককাহিনীর সংগ্রহ ও রূপান্তরের অনুরূপ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পত্রে ন্যারেটিভ থিওরি, প্রপ-এর আখ্যান কাঠামো এবং লোককাহিনীর চরিত্র ও প্রতীক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে, লোককাহিনী শুধুমাত্র গল্প নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বেহুলা-লখিন্দর ও মনসামঙ্গল কাব্য ইত্যাদি উদাহরণ আখ্যান রূপান্তরের প্রক্রিয়া প্রদর্শন করে, যেখানে মৌখিক কাহিনী লিখিত ও নাট্যরূপে রূপান্তরিত হয়েছে। সমকালীন সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রে লোককাহিনী নতুন রূপে প্রাণ পেয়েছে, যেখানে এর সাংস্কৃতিক অর্থ ও প্রতীকী গভীরতা রক্ষিত থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যম এ প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করেছে। গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, আখ্যান রূপান্তর শুধু সাহিত্যিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠন। এটি লোকঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও আধুনিক যুগে তার প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করে।